
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের সর্বাধুনিক মেগারকেট স্টারশিপ তাদের চতুর্দশ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের স্টারবেস কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সময়ে বিশাল এই রকেটটি সফলভাবে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। উৎক্ষেপণের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই রকেটের প্রথম ধাপের সুপার হেভি বুস্টারটি মূল মহাকাশযান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মেক্সিকো উপসাগরে নিরাপদে নেমে আসে। অন্যদিকে স্টারশিপের মূল মহাকাশযানটি প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মহাকাশে সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্টারশিপটি অত্যন্ত সফলভাবে স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের ২৬টি স্টারলিংক ভি থ্রি ইন্টারনেট স্যাটেলাইট স্থাপন করে। মহাকাশযানটির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে উপগ্রহ বা পে-লোড মহাকাশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এটিই ছিল প্রথম কোনো সফল পরিচালনা। এই স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশ থেকে ইন্টারনেট সেবার মান আরও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। এর আগের ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে মহাকাশযানটি কেবল সাব-অরবিটাল ধাপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল, ফলে এবারের এই সাফল্য ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অভিযানের পথ আরও প্রশস্ত করল।
তবে মহাকাশে অবস্থানকালে রকেটের ইঞ্জিনের থ্রাস্টার বা ধাক্কা প্রদানকারী অংশে সামান্য কারিগরি জটিলতা দেখা দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির কারণে স্পেসএক্সের মিশন কন্ট্রোল টিম নির্ধারিত দীর্ঘ মিশনটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেটটির পৃথিবীর চারপাশে ছয়বার প্রদক্ষিণ করার কথা থাকলেও, থ্রাস্টারের সমস্যার কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত পথের পরিবর্তন ঘটিয়ে মহাকাশযানটিকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
সামান্য সময়ের জন্য মিশন সংক্ষিপ্ত করা হলেও সামগ্রিকভাবে এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নকে অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ বলে মূল্যায়ন করছে স্পেসএক্স। প্রথমবার পূর্ণ কক্ষপথে পৌঁছানো এবং ত্রুটিহীনভাবে স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করার এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই স্টারশিপের ওপর বিশেষভাবে নির্ভর করা হচ্ছে। আজকের এই সফল অভিযানের তথ্য ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে নিরাপদ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য যান পাঠানোর লক্ষ্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে।