মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :

জাতীয় বন্দর কৌশল: ঋণের কিস্তি পরিশোধেই যাবে আয়ের পাঁচ গুণ

Reporter Name

দেশের স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হলেও এর সুফল ও আয়ের সিংহভাগ আসছে মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট বন্দর থেকে। সম্প্রতি প্রস্তুত করা বাংলাদেশ জাতীয় বন্দর কৌশლის খসড়ায় উঠে এসেছে যে, দেশের সচল ১৬টি স্থলবন্দরের মোট রাজস্বের প্রায় ৭৮ শতাংশ এবং মুনাফার প্রায় ৭৪ শতাংশ অর্জিত হয় মাত্র চারটি বন্দর থেকে। অথচ বাকি বন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো থাকলেও সে অনুপাতে আয় হচ্ছে না। একই সঙ্গে কোন বন্দরে ঠিক কী পরিমাণ পণ্য ও যাত্রী চলাচল করছে, তার সুনির্দিষ্ট ডেটা বা তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রতিটি প্রকল্পের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

খসড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসছে। আগামী ২০২৮ সালের পর থেকে এই বিদেশি ঋণ পরিশোধের বার্ষিক কিস্তির পরিমাণ বর্তমান নিট আয়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের চলমান তিনটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপরিকল্পিত বিনিয়োগ এবং ঋণের এই বিপুল চাপ সামলাতে না পারলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আর্থিক সংকট এড়াতে খসড়া কৌশলে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সব স্থলবন্দরে একবাক্যে একই ধরনের ব্যয়বহুল অবকাঠামো না বানিয়ে, বরং স্থানীয় চাহিদা, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রকৃত চিত্র এবং আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এককালীন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের বদলে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে অব্যবহৃত স্থাপনার পেছনে অর্থ অপচয় না হয়। সীমান্ত এলাকার স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবসায়ীদের জন্য মাশুল ও সেবার মান সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় বেনাপোলের মতো ব্যস্ততম স্থলবন্দরগুলোতে শ্রমিক ও চালক ব্যবস্থাপনায় জনবল ঘাটতি এবং নিরাপত্তার নানা ফাঁকফোকর চিহ্নিত করা হয়েছে। চোরাচালান রোধ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং কার্গো এক্স-রে স্ক্যানিং বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি ও ভারতীয় ট্রাকের ধারণক্ষমতার বড় পার্থক্যের কারণে পরিবহন ব্যয় ও জটিলতা দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ মোড হাদিউজ্জামান মনে করেন, চাহিদাভিত্তিক বিনিয়োগ নিশ্চিত না করলে ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়বে। তবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়লে আয়ও বৃদ্ধি পাবে এবং প্রয়োজন হলে সরকার সহায়তা প্রদান করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page