
ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান ও সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি অর্জিত হলে তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বিবেচনা করতে পারে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি দেশটির বিদেশে অবরুদ্ধ বা জব্দকৃত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও মার্কিন প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বেশ গঠনমূলক আলোচনা চলছে।
তবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে, তার সম্পূর্ণ ও সন্তোষজনক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রভাবশালী দেশটির পারমাণবিক ambitions বা উচ্চাভিলাষ পুরোপুরি সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন অবস্থান এখনো বেশ কঠোর রয়েছে। এদিকে, হোয়াইট হাউসের এই বিবৃতির বিষয়ে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি যোগাযোগ করলেও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতায় এই নতুন বার্তা এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের উদ্দেশ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইরানের তৎকালীন শর্তগুলোকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সম্ভাবনার কথা জানানো হলো।
হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ঠিক পরের দিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন যে, খুব শীঘ্রই তেহরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে পারে। আগের বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিরা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে কিছুটা বাড়াবাড়ি করেছেন বলে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে আসায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে নতুন কোনো কূটনৈতিক পথ উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।