
ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকা নিয়ে জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় কাজ করে থাকে। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় ফল খাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে ফল খাওয়া বারণ নয়, তবে তা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করলে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফলের পরিবর্তে ফল গ্রহণের প্রক্রিয়া। জুস, স্মুদি বা চিনি মেশানো বিভিন্ন ধরনের শরবত এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তরল আকারে ফল খেলে এর ভেতরের প্রাকৃতিক শর্করা খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই প্রক্রিয়াজাত বা রসালো পানীতির বদলে ফল খাওয়ার সময় অন্যান্য মাধ্যম বাদ দিতে হবে।
এই কারণে পুষ্টিবিদরা সব সময় প্রক্রিয়াজাত জুসের বদলে আস্ত বা গোটা ফল খাওয়ার ওপর জোর দেন। গোটা ফল চিবিয়ে খেলে তাতে থাকা ফাইবার বা আঁশ হজম প্রক্রিয়ায় ধীরগতি আনে, ফলে রক্তে শর্করা ধীরে শোষিত হয়। ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।
তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত তাজা ও গোটা ফল খেতে পারেন। তবে কোন ফল কী পরিমাণ খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।