শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

মাগুরায় ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী আটক

Reporter Name

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় এক বালু ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিহত মো. রাব্বি মণ্ডল পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের নজরুল মণ্ডলের ছেলে এবং পেশায় একজন বালু ব্যবসায়ী ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুলিশ আটক করেছে। পারিবারিক নানা দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাব্বি মণ্ডলের সাথে তাঁর স্ত্রী ফারজানা আক্তারের দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বির ওপর এই মারাত্মক হামলা চালানো হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাত থেকেই রাব্বি ও ফারজানার মধ্যে দাম্পত্য কলহ এবং বাগ্‌বিতণ্ডা চলতে থাকে। সেই পূর্ববিরোধের জের ধরে গভীর রাতে অথবা ভোরের দিকে যখন রাব্বি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন ধারালো দা দিয়ে তাঁর গলায় আঘাত করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার পাশের আমতৈল গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে পালিয়ে যান। পরে নিহতের শ্বশুর নিজেই শ্রীপুর থানা-পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানান এবং পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত গৃহবধূকে তাদের হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো দা আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নিহতের শোকার্ত পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাব্বির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে তাঁকে মারধর ও অপমান করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে ফারজানার বাবা ফোন করে জামাই ও মেয়ের মধ্যে ঝগড়ার কথা জানান। এই সংবাদ পাওয়ার পর নিহতের বাবা দ্রুত ছেলের ঘরে প্রবেশ করে বিছানার ওপর রাব্বির রক্তাক্ত ও নিথর দেহ দেখতে পান। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা নজরুল মণ্ডল এই নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তাঁদের একটি পাঁচ বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে এবং অভিযুক্ত ফারজানা বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীপুর থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এছাড়া অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া গণমাধ্যমকে জানান যে দাম্পত্য কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাঁরা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছেন। মূল অভিযুক্ত স্ত্রীকে ইতোমধ্যে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page