
জার্মানির বার্লিন ব্রান্ডেনবার্গ বিমানবন্দরের আকাশসীমায় একটি রহস্যজনক ড্রোন দেখতে পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে বিমানবন্দরের ব্যস্ত দুটি রানওয়ে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে আকাশপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সাময়িক বিপর্যয় নেমে আসে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এই কড়া পদক্ষেপ নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, বিমানবন্দরের উত্তর রানওয়ের ওপর হঠাৎ করেই ওই ড্রোনটি ভেসে ওঠে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে বিমানবন্দরের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে রাত নয়টার পর আকাশসীমা আবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হলেও ততক্ষণে নির্ধারিত সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে এবং অনেক বিমান নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জার্মানির ফেডারেল পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তত পাঁচটি আগত ফ্লাইটকে বার্লিনে অবতরণ না করিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেসডেন ও লাইপজিগ বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আকাশে দেখা যাওয়া বস্তুটি শখের বসে ওড়ানো কোনো সাধারণ ড্রোন ছিল, নাকি বিমানবন্দরের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানোর কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারীরা।
জার্মান বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় ড্রোন sightings বা ড্রোন দেখা যাওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই শুধু বার্লিন ব্রান্ডেনবার্গ বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে প্রায় আটাশটি ড্রোন দেখা যাওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর আগেও জার্মানির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং সংবেদনশীল অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের সন্দেহজনক ড্রোন ওড়ার বহু ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে যা বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।