
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটিকে উভয় পক্ষই অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ফলপ্রসূ আলোচনা বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং তেহরানের তরফ থেকেও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের দীর্ঘ আলোচনা হয়। এর আগে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান এই যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও জাতিসংঘের ভাষণে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে উত্তেজনার রেশও স্পষ্ট ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার হুশিয়ারি দেন এবং তার এই বক্তব্য চলাকালীন ইরানি প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ ত্যাগ করে। এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, দেশ কখনো কারো কাছে নতি স্বীকার করবে না, তবে তারা আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি চান।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়লেও পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীদের দৌড়ঝাঁপ দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান আলোচ্য বিষয়।