
গুরুতর আহত এক ফিলিস্তিনি নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক ইসরায়েলি সেনাকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে যে, ওই সেনা একই সঙ্গে চিকিৎসাকর্মী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস ও সমালোচনার মাঝেই এই ক্ষমার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল বেশ কিছুদিন আগে, যখন ওই ফিলিস্তিনি ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে পড়েছিলেন এবং তার পক্ষে আত্মরক্ষা বা আক্রমণ করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। এমন একটি অসহায় ও অরক্ষিত পরিস্থিতিতে ওই ইসরায়েলি সেনা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। চিকিৎসাকর্মী হয়েও জীবন বাঁচানোর শপথ ভঙ্গ করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘলানোর পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট সেনা দোষী সাব্যস্ত হয়ে শাস্তি ভোগ করছিলেন। তবে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ধরনের অপরাধীকে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘটনা মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। ফিলিস্তিনি পক্ষসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং একে বিচারহীনতার সংস্কৃতির আরও একটি স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রদান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভেতরে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সাধারণ মানুষের ওপর চলা নিপীড়ন ও সহিংসতার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তি যে কতটা অনিশ্চিত, এই ঘটনাটি তারই আরেকটি বড় উদাহরণ। এর ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাতময় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও বেশি সুদূরপরাহত হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।