
কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কিছু শীতলতা বা দূরত্ব কাটিয়ে বরফ গলতে শুরু করেছে। নানা সমীকরণের জেরে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ কিছুটা মন্থর হলেও এখন তা নতুন গতি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার নীতিনির্ধারক মহলগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ অনুভব করছে।
এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে মূল নজর দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার ওপর। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এই সফরটি সফল ও ফলপ্রসূ করতে পর্দার আড়ালে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। মূলত আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে এই সফরে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু তাদের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের কূটনৈতিক কোয়ার্টারে এই সফরকে ঘিরে বেশ জোরালো আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে আন্তরিক। এই সফর সম্পন্ন হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের মৈত্রী ও অংশীদারিত্বের সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। অতীতে বিভিন্ন কারণে সম্পর্কে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে তা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঢাকা ও দিল্লির এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।