শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

তিন বছরের মধ্যে প্রথম ব্যাংক সুদের হার বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র

Reporter Name

দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় পর নিজেদের ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা ফেডারেল রিজার্ভ নামে পরিচিত। সম্প্রতি দেশটির অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে সুদের হার প্রায় শূন্যের কোঠায় রেখে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার যে নীতি ফেড অনুসরণ করছিল, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চাপে সেখান থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসলো।

করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে সবকিছুর দামই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল, যা মার্কিন নীতিনির্ধারক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। এই লাগামহীন মূল্যস্ফীতিকে যেকোনো মূল্যে সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে সুদের হার বাড়ানো ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে আর কোনো কার্যকর বিকল্প পথ খোলা ছিল না।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার চাহিদা মেটাতে কেবল এই একবারই নয়, বরং আগামী দিনগুলোতে সুদের হার আরও বাড়ানোর পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ফেড তাদের এই কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে আগামীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদও বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুদের হার বাড়ানোর এই নীতি একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতি কমাতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারের ওপর। ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়তে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা হলেও শ্লথ করে দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের স্বার্থেই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page