
কানাডাকে তাদের ইতিহাসের প্রথম সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ। এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি ইইউর এই ধারণাকে সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে জোরালো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটন চুপ করে বসে থাকবে না।
এই ধরনের উদ্যোগের কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। শুধু শুল্ক বৃদ্ধির কথা বলেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি, বরং ইইউর সঙ্গে সমস্ত ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বাণিজ্যিক আধিপত্য রক্ষায় তিনি এই ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করতে পিছপা হবেন না বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারির পর transatlantic সম্পর্ক বা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মিত্রতা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কানাডাকে নিজেদের অর্থনৈতিক বলয়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার ইইউর এই কৌশল উত্তর আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব খর্ব করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ করে ট্রাম্পের শাসনামলে বাণিজ্যনীতি নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে অতীতেও নানা টানাপোড়েন দেখা গেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে এবং ব্রাসেলস বা অটোয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী ধরনের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। ইইউর প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের এই আকস্মিক হুমকির ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক পর্যায়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।