বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
‘লাইনটা সত্যিই চালু আছে কি না দেখলাম’, সারের কন্ট্রোলরুমে অদ্ভুত সব কল ডেঙ্গুতে হার মানলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নুর জাহান ঝরনায় শিশুকে নিয়ে হাঁটছিলেন বাবা, হঠাৎ কাঁধে পড়লো সাপ একই ঘরে দুই তরুণী, ‘বাসর’ সাজিয়ে রাতযাপন হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ স্বামীকে হারানো অন্তঃসত্ত্বা দুই স্ত্রীর ভবিষ্যৎ কী, ৪ সন্তানের কী হবে একাদশে ভর্তির ফল প্রকাশ ‘আসসালামু আলাইকুম’-‘ইনশাআল্লাহ’ বলা ঘিরে বিতর্কের জেরে পশ্চিমবঙ্গে নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির অভিযোগ একাদশে ভর্তির ফল রাত ৮টায়, দেখা যাবে যেভাবে

স্বামীকে হারানো অন্তঃসত্ত্বা দুই স্ত্রীর ভবিষ্যৎ কী, ৪ সন্তানের কী হবে

Reporter Name

সম্প্রতি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় পদদলিত হয়ে রমজান আলী নামের এক সিএনজিচালক মারা যান। জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিদ্যানন্দ গ্রামের এই বাসিন্দা বুকে ব্যথা নিয়ে সম্প্রতি হাসপাতালের চারতলায় ভর্তি হয়েছিলেন এবং পরীক্ষার পর তার হার্টে সমস্যা ধরা পড়েছিল। তাকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার আশা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তার পরিবার, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মরদেহ হিসেবেই ফিরতে হয়েছে। এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং চারপাশের মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রমজান আলীর ব্যক্তিগত জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং কাকতালীয়ভাবে তার দুই স্ত্রীর নামই খাদিজা, যাদের বয়স যথাক্রমে ৩৫ ও ২৭ বছর। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুটি এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুটি সহ মোট চারটি সন্তান রয়েছে এই দম্পতির সংসারে। এর বাইরেও সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তার দুই স্ত্রীই বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রয়েছেন; একজন সাত মাস এবং অন্যজন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যুর পর এই অনাগত সন্তান ও চার শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই স্ত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দিশাহারা অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে রমজানের স্বজনেরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন। নিহত সিএনজিচালকের ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, তার ভাই স্থানীয় একটি ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকেও টাকা ধার করেছিলেন। একমাত্র কর্মক্ষম মানুষটির মৃত্যুর পর তার পরিবার কীভাবে সংসার চালাবে এবং এতগুলো ঋণ পরিশোধ করবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা না পেলে এই পরিবারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

রমজানের দুই স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, তার স্বামীর তৈরি করা ঘরটি এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি এবং নিজের কোনো স্থায়ী বাসস্থানও নেই। সিএনজি চালিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাতেন রমজান, যার ঋণ এখনও পুরোপুরি শোধ করা যায়নি। অন্যদিকে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পদদলিত হয়ে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই, তবে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page