
সাংস্কৃতিক উপাদান ও জনপ্রিয় সুর ব্যবহারের মাধ্যমে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান করার এক নতুন ধারা তৈরি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এর আগেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা মুহূর্ত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি ব্যতিক্রমী সব গানের সুর বেছে নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ভারত সফরের অভিজ্ঞতা এবং স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলিউড সিনেমার চিরসবুজ কিছু গান ব্যবহার করেছেন। তাঁর এই অভিনব কৌশল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘সং ডিপ্লোম্যাসি’ বা সংগীত কূটনীতি হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ভারত মণ্ডপমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনার মুহূর্তগুলো নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। এই ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে তিনি বেছে নেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী রোমান্টিক গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির এই বিখ্যাত গানটি ব্যবহারের ফলে সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওটিতে কেবল একটিমাত্র গান ব্যবহার করেই ক্ষান্ত হননি মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী, বরং পুরো ভারত সফরকে ফুটিয়ে তুলতে তিনি বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সুর সংযুক্ত করেছেন। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তোলা আরেকটি বিশেষ ছবির সঙ্গে যুক্ত করা হয় ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার মূল শিরোনাম গানটি। এছাড়া ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের স্থিরচিত্রের সঙ্গে বাজানো হয় ‘হর দিল জো পেয়ার করেগা’ ছবির গান এবং ভারত ত্যাগের মুহূর্তের ভিডিওতে রাখা হয় ‘লক্ষ্য’ সিনেমার দেশাত্মবোধক গানটি।
উল্লেখ্য, এই রাষ্ট্রীয় সফরের ফাঁকে ভারতের বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গেও এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তাদের সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভোজসভার ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে উঠেছিল জনপ্রিয় সিনেমা ‘ভীর-জারা’র আবেগঘন গান ‘আইসা দেশ হ্যায় মেরা’। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরেও যে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যক্রম তারই এক চমৎকার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।