
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালাটি আধুনিক রূপ দিয়ে সম্প্রতি পুনরায় উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য, গৌরবময় অর্জন এবং ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি ও নিদর্শন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ডাকসুর বর্তমান ও সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থা থেকে মুক্ত করে সংগ্রহশালাটিকে একটি আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল স্থানে রূপান্তর করা হয়েছে।
উদ্বোধনী আয়োজনে জানানো হয়, ১৯২১ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের দুর্লভ দলিল ও ছবি এখানে স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ের ইতিহাস কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক ঘটনা ও শহীদদের স্মৃতি এখানে ক্রমানুসারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক ভিপি ও জিএসদের নাম সংবলিত অনার বোর্ডও সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হয়েছে।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালাটিকে আধুনিক করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। আগামী কয়েকদিন ধরে এতে আরও নতুন নতুন ঐতিহাসিক দলিল সংযোজন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক ও ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, পোস্টার ও স্মারক সংগ্রহ করে এই প্রদর্শনীকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফরহাদ বলেন, নব্বইয়ের দশকের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এটি চরম অবহেলায় পড়েছিল এবং এক পর্যায়ে ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে সেই অবহেলিত স্থানটিকে ইতিহাসের জীবন্ত দলিল হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে কিছু সাবেক ভিপির ছবি ও তথ্য এখনো সংগ্রহ করা বাকি থাকায়, আগামী এক সপ্তাহ তথ্য সংশোধন ও সংযোজনের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য বা ছবি দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, এই সংগ্রহশালাটি কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস ধারণ করে আছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর মাধ্যমে পূর্বসূরিদের কাজ, প্রতিকূলতা এবং সাফল্যের বিষয়ে জানতে পারবে। এই সংগ্রহশালাকে আরও নিখুঁত ও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসীর পাশাপাশি গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিলপত্র ও জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।