
অভাব-অনটনের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রাম আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক বৃদ্ধের আকুতি ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের হৃদয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও ভালোবাসার মানুষটিকে বাঁচাতে না পারার বেদনায় নীল হয়ে আছেন ৬৫ বছর বয়সী সাজু শেখ। চরম দারিদ্র্য ও অনাহারে দিন কাটানো এই দম্পতির জীবনে সুখ কপালে না জুটলেও পারস্পরিক ভালোবাসা ও মমতার কমতি ছিল না। কিন্তু পেটের ক্ষুধা আর জীবনসঙ্গীনির মারাত্মক অসুস্থতা সেই ভালোবাসাকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো পরিশ্রম করার ক্ষমতা নেই সাজু শেখের। অভাবের তাড়নায় দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো দুবেলা খাবার জোটে না তাদের সংসারে। এর মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার চিরদিনের সহচরী নূরজাহান বেগম। সুচিকিৎসা তো দূরের কথা, নিয়মিত ওষুধ কেনা কিংবা ক্ষুধার্ত স্ত্রীর মুখে একটু খাবার তুলে দেওয়ার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছেন এই অসহায় বৃদ্ধ। চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন চোখের সামনে প্রিয় মানুষটিকে মৃত্যুর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখছেন তিনি।
অসহায় কণ্ঠে বৃদ্ধ সাজু শেখ আক্ষেপ করে জানান যে, কেউ যদি একটু এগিয়ে এসে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিত, তবে হয়তো ভালোবাসার মানুষটিকে এত সহজে হারাতে হতো না। নিজের জীবনের কষ্টের কথা তিনি কখনো এভাবে ভাবেননি, কিন্তু স্ত্রীর কষ্ট তাকে মানসিকভাবে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিচ্ছে। চারপাশে বিত্তশালী বা সাহায্যকারী মানুষের দেখা না পেয়ে সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য প্রার্থনা করছেন এই বৃদ্ধ।
বর্তমান সময়ে মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন যখন বারবার সামনে আসে, তখন সাজু শেখ ও নূরজাহান বেগমের এই করুণ কাহিনী আমাদের সমাজের অবহেলিত মানুষের কথাই মনে করিয়ে দেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন অসংখ্য গরিব ও অসহায় মানুষ অর্থাভাব ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিত্তবান ও সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলো যদি সময়মতো এগিয়ে আসে, তবে হয়তো নূরজাহানের মতো বহু অসহায় মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।