রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ১১ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত এক ছাত্র

Reporter Name

রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বহুতল ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে ষোড়শ বর্ষীয় এক শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে জহ্ম হয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্যাম্পাসে এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগী অমিত ঘোষ ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণ এবং শিক্ষার্থী মহলে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে ওই কিশোর শিক্ষার্থীকে শ্যামলী এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে তার আঘাতের পরিমাণ এতটাই গুরুতর যে চিকিৎসকরাও তার জীবন নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে বিদ্যালয় ভবনের একাদশ তলার ছাদ থেকে ওই শিক্ষার্থী নিচে ছিটকে পড়েন। মাটিতে পড়ার সময় উপুড় হয়ে যাওয়ায় তার মুখমণ্ডল, নাক এবং মাথা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়টির বিভিন্ন সূত্রে এই ঘটনাটিকে আত্মহত্যার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দাবি করা হয়েছে। শিক্ষকদের একটি অংশের ভাষ্যমতে, ওই শিক্ষার্থী কোনো একটি বিশেষ মোবাইল গেমের প্রতি তীব্র আসক্তির শিকার হয়েছিল এবং তার ব্যাগের ভেতরে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। যদিও সেই তথাকথিত সুইসাইড নোটে ঠিক কী লেখা ছিল সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু অভিভাবক দাবি করেছেন যে অতিরিক্ত পড়াশোনার মানসিক চাপ থেকে সে এই চরম পথ বেছে নিতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে সে বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণাধীন ওই ঝুঁকিপূর্ণ ছাদটিতে গিয়েছিলো, সে বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, যে ভবনটির ছাদ থেকে শিক্ষার্থী নিচে পড়েছে সেখানে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং ছাদটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য ওই এলাকায় প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সে কীভাবে সেখানে পৌঁছাল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে যে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page