
অতীতের ভুল সংশোধন এবং নৈতিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি কর্মজীবনে বিভিন্ন সময় বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করার বিষয়টি উপলব্ধি করে রেল কর্তৃপক্ষকে বকেয়া ভাড়া বাবদ এককালীন ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। সম্প্রতি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের টিকিট বুকিং কাউন্টারে উপস্থিত হয়ে তিনি এই অর্থ জমা দেন। তার এমন সততা ও সচেতনতা রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে দারুণ প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।
টাকা জমাদানের সময় ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর রেলওয়ে ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট এ কে এম নুরুল আলম, ঈশ্বরদী রেলওয়ের সিনিয়র টিকিট পরীক্ষক আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু এবং স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শহিদুল ইসলাম। রেলওয়ের এই প্রতিনিধিরা ওই শিক্ষিকার সততার প্রশংসা করেন এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানান। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কিছু সচেতন যাত্রীর পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষিকা তার চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। কর্মজীবন শেষ করার পর তার মনে তীব্র অনুশোচনা জাগে যে, অতীতে রেলের সেবা গ্রহণ করলেও তিনি যথাযথ ভাড়া পরিশোধ করেননি। এই অনুভবের পরই তিনি তার অতীতের ভাড়ার হিসাব চুকিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহীর রেলওয়ে ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন এবং এর প্রতিকারের উপায় জানতে চান।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ওই শিক্ষিকা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের উদ্যোগ নেন। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী তিনি ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে এসে বুকিং সহকারী শহিদুল ইসলামের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের সততা ও অপরাধবোধ থেকে শুদ্ধ হওয়ার মানসিকতা অত্যন্ত বিরল ও অনুকরণীয়। এই শিক্ষিকার এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য যাত্রীদেরও নিয়ম মেনে টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করতে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।