
জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর গণপরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সংশোধিত ছয়টি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন যেকোনো মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই আধুনিক বাসসেবা চালুর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে এই উদ্যোগের আওতায় আগামী পঁচিশ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত দুটি নির্দিষ্ট রুটে একক কোম্পানির বাস চালু করার জোরালো প্রচেষ্টা চলছে। সম্প্রতি রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ওই সভায় এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে বর্তমানে চলাচলকারী বিভিন্ন কোম্পানির বাসগুলোকে একীভূত করে একটি মাত্র শক্তিশালী কোম্পানি গঠন করা হবে এবং প্রয়োজনে কিছু রুট নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা হবে।
একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার জন্য মোট ছয়টি রুটকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিববাড়ী থেকে সদরঘাট, গাবতলী হয়ে ডেমরা, এবং দুয়ারীপাড়া থেকে আজিমপুর হয়ে সদরঘাট রুট। এ ছাড়া রামপুরা ও কাকরাইল হয়ে ঘাটারচর থেকে ডেমরা এবং কাঁচপুর পর্যন্ত রুট এবং মিরপুর বারো থেকে বাবুবাজার হয়ে মাওয়া রুটকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরীতে যাত্রী চলাচলের সুবিধার জন্য নতুন করে তিনটি রুটে বৃত্তাকার বাস সার্ভিস চালুরও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে কিছু অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাস মালিকরা। নতুন গঠিত কোম্পানিতে যার যতটি বাসই থাকুক না কেন, মালিকরা সমানসংখ্যক পরিচালক পদ পাওয়ায় শেয়ার বণ্টন নিয়ে তাদের মধ্যে কিছু অসন্তোষ ও আপত্তি দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে, পরবর্তী বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে এসব জটিলতার অবসান ঘটানো সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে সমগ্র ঢাকাকে নির্দিষ্ট সংখ্যক রুটের আওতায় এনে আধুনিক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।