
জাতীয় ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন বা উৎকণ্ঠা ছাড়াই তাদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়, যা দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্বাস করে। জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল ও একটি জনবান্ধব সংগঠন হিসেবে দলটি নিজস্ব অবস্থান থেকে সবসময় দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। আসন্ন দুর্গোৎসবের দিনগুলোতেও জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সজাগ দৃষ্টি রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মাটি সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ এবং নিরাপদ রাখাটাই আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতে যেভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে, এবারও তার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনতাকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
সবশেষে, দেশের সকল স্তরের জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন। যেকোনো ধরনের উসকানি বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার মাধ্যমে এই উৎসবকে সফল করে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জামায়াতের এই ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল অবস্থান দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।