
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় সেন্টারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক লন্ডন হালাল ফোরাম। 'মানবতার জন্য হালাল ও পবিত্র' প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্প খাতের নেতারা অংশ নেন। সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমের এই আয়োজনে দেড় হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে হালাল খাতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সম্মেলনটির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী নানা পদের নাশতা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।
চলমান এই ফোরামে হালাল অর্থনীতির সামগ্রিক পরিধি সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সাধারণত হালাল বলতে এতদিন কেবল নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য ও হালাল সনদকে বোঝানো হলেও, বর্তমান যুগে এর ব্যাপ্তি অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা বিনিয়োগ, পর্যটন, আধুনিক প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে হালাল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন।
অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং ফিলিস্তিনের উৎপাদক, বিনিয়োগকারী ও নতুন স্টার্টআপগুলোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। তুরস্কের ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, খাদ্য খাতের হাত ধরে শুরু হওয়া এই অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরবর্তীতে প্রযুক্তি, চিকিৎসাসহ অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজনকারী খাতেও বিস্তৃত করা সম্ভব।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত তার বক্তব্যে গাজায় চলমান পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে স্থানীয়দের ওপর নানা প্রতিবন্ধকতা ও হামলার বিষয়টিও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং হালাল প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ফোরাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।