
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদী এই সহযোগিতার রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখন নানা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এটি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা।
এই সমঝোতার প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার চলমান ভূমিকা বা অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ ইতোমধ্যেই রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বেশ দূর পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই নতুন পারমাণবিক চুক্তি যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি কেবল প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব হলেও এর পেছনে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বহুল আলোচিত '১২৩ চুক্তি' স্বাক্ষরিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উন্নত পারমাণবিক সহযোগিতা পেতে হলে এই ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণের বিষয়টি সামনে আসে। তবে এ ধরনের চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত বৈদেশিক নীতি এবং অন্যান্য বড় শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের সমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই নতুন সমঝোতা দেশের জ্বালানি খাতের ওপর দীর্ঘমেয়াদে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক খাতের এই সমঝোতা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঠে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলের একটি বড় পরীক্ষাও বটে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্পের কাজের পাশাপাশি আমেরিকার এই সম্পৃক্ততা দেশের সামগ্রিক পারমাণবিক শক্তির বিকাশকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা আগামী দিনে পরিষ্কার হবে।