
রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে দেশের কোথাও যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সম্প্রতি গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বৈঠকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আসন্ন পূজাকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠকে দলের নীতিনির্ধারকরা মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং যুগ যুগ ধরে এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা চলাকালীন দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কোনো দুষ্কৃতকারী বা স্বার্থান্বেষী মহল যেন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বা সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে কোনো ধরনের উসকানি বা নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসনকে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির হাইকমান্ডের তরফ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় পাহারাদার হিসেবে সজাগ থাকতে হবে। পূজার সময় যাতে দেশের কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা বা মন্দিরে হামলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের পাশে থাকার জন্য মাঠপর্যায়ের নেতাদের কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপূজার মতো একটি বড় উৎসবে বিএনপির এই ধরনের সচেতনতামূলক বার্তা দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। অতীতে বিভিন্ন সময় পূজাকে কেন্দ্র করে নানামুখী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠায় এবার দলীয়ভাবে আগে থেকেই এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার ফলে নেতাকর্মীদের মাঝেও বাড়তি সতর্কতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উৎসবের দিনগুলোতে দেশের সব স্তরের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।