
খেলা ডেস্ক: ইউরোপীয় ফুটবলের আঙিনায় নিজের ক্যারিয়ারে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করলেন তরুণ ফুটবলার ফাহামিদুল ইসলাম। ইতালিয়ান ক্লাব সেস্ত্রি লেভান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্কোয়াডে যুক্ত করেছে ২০ বছর বয়সি এই সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডারকে। কিছুদিন আগে ক্লাবটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বাংলাদেশি তরুণের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়। তবে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া চুক্তির মেয়াদ কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
সেস্ত্রি লেভান্তে শিবিরে যোগ দেওয়ার পূর্বে ইতালির অপর ক্লাব ওলবিয়া ক্যালসিওর জার্সিতে খেলেছেন ফাহামিদুল। সেখানে প্রায় দেড় মৌসুমের লম্বা যাত্রায় ২৮টি ম্যাচে মাঠে নেমে একটি গোল করার কৃতিত্ব দেখান তিনি। গত জুনে ওলবিয়ার সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন কোনো সুযোগের সন্ধানে ছিলেন এই মিডফিল্ডার। এর আগে বয়সভিত্তিক ফুটবলে স্পেজিয়া এবং সাম্পদোরিয়ার মতো পরিচিত ক্লাবের একাডেমিতে নিজের দক্ষতা শানিত করেছেন তিনি। পরবর্তীতে সিনিয়র পর্যায়ে লিগর্না, লিভর্নো ও ওলবিয়ার মতো ক্লাবের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এই তরুণ।
ইতালিতে বেড়ে উঠলেও নিজের শেকড়ের টানে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন ফাহামিদুল। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি লাল-সবুজ জার্সিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন এবং গত বছরের জুনে ভুটানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে তার অভিষেক হয়। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ দল দুই গোলে জয়লাভ করে এবং ফাহামিদুলও নিজের জাত চেনান। এখন পর্যন্ত দেশের জার্সিতে নয়টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যার মধ্যে সদ্য সমাপ্ত ফিফা আসিয়ান কাপের তিনটি ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে এখনো কোনো গোলের দেখা না পেলেও মাঝমাঠে তার উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়িয়েছে।
এদিকে ফাহামিদুলের নতুন ক্লাব সেস্ত্রি লেভান্তে বর্তমানে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে পথ চলছে। দলটি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান ফুটবলের তৃতীয় স্তরে খেললেও গত মৌসুমের শেষে অবনমিত হয়ে বর্তমানে চতুর্থ স্তরে নেমে গেছে। বর্তমানে লিগের লড়াইয়েও বেশ চাপে রয়েছে ক্লাবটি, যেখানে তারা ছয় ম্যাচে মাত্র সাত পয়েন্ট অর্জন করে পয়েন্ট তালিকার ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। কঠিন এই পরিস্থিতিতে ফাহামিদুলের অভিজ্ঞতা ও গতি সেস্ত্রি লেভান্তের মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতে এবং ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।