
স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে এখনো নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও কুসংস্কার রয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন মানসিক অসুস্থতা মানেই কোনো বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা বা দুর্বলতা, যা আদতে সত্য নয়। শারীরিক রোগের মতো মানসিক সমস্যাও যেকোনো মানুষের জীবনে দেখা দিতে পারে এবং এর যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই রোগগুলোর প্রকৃত কারণ বুঝতে ব্যর্থ হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মানসিক রোগের মূল কারণ হলো মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্যহীনতা। আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এই রাসায়নিক উপাদানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন কোনো কারণে এই স্বাভাবিক ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে, তখনই বিভিন্ন মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
অনেকেরই ধারণা থাকে যে মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো কেবল নেশা তৈরি করে বা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। আধুনিক মানসিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো মূলত মস্তিষ্কের সেই ভারসাম্যহীন রাসায়নিক উপাদানগুলোর মাত্রা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করলে রোগীরা ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
তাই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভীতি বা লুকোচুরি না করে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে কাউন্সেলিং ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করলে রোগীরা স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন ফিরে পেতে পারেন। সমাজ থেকে এই ধরনের ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করতে হলে ব্যাপকভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে রোগীরা কোনো রকম সামাজিক সংকোচ ছাড়াই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন।