
জাতীয় ডেস্ক: আলেম-ওলামাদের অন্যের রাজনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়নকারী না হয়ে বরং নিজেদের স্বতন্ত্র নীতি ও শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে চালকের আসনে বসার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সম্প্রতি ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আয়োজনে গবেষণামূলক সংকলন 'উত্তরাধিকার'-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, দেশের ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আর কারও ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার হতে দেওয়া যাবে না।
নির্বাচনী মৌসুমে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের ভণ্ডামির তীব্র সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অতীতে ভোট ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো বিশেষ পোশাকে মাদরাসাগুলোতে গিয়ে আলেম সেজে ফায়দা হাসিল করেছে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ামাত্রই সেই একই গোষ্ঠী আলেম সমাজকে প্রান্তিক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। এই শোষণের চক্র ভাঙতে আলেমদের নিজেদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ও কৌশল তৈরি করার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন নিপীড়ন ও নির্যাতনের ইতিহাস স্মরণ করে এই নেতা জানান, ২০০৯ সাল থেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে আলেম সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং নানা ধরনের জুলুমের শিকার হতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদদের পরিবারগুলোর বয়ান নিয়ে আরও আগেই প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টেশন হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই অপপ্রচার চালিয়েছিল যে দেশে আলেম সমাজ থাকলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকে না। তবে গত আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয় আলেম ও মাদরাসার ছাত্ররা রাত জেগে পাহারা দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সেই প্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ছিল।