
বুয়েনস এইরেসের স্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আজ রাতে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আগেই বিদায় জানালেও দেশের মাটিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। সমর্থকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি ও আকুতি পূরণ করতে গত মাসে বিশেষ এই বিদায়ী ম্যাচের ঘোষণা দিয়েছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ বেনিন, যা নিয়ে ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
ফুটবলের লড়াইয়ের বিচারে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বেশ পিছিয়ে থাকা বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিকে অনেকে একপেশে মনে করলেও সমর্থকদের কাছে এর গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। কিছুদিন আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে বড় জয় পাওয়া দলটি ঘরের মাঠে তাদের চিরচেনা জাদুকরকে বর্ণিল বিদায় জানাতে প্রস্তুত। ফলাফল যাই হোক না কেন, আকাশি-সাদা জার্সিতে প্রিয় তারকার শেষ মুহূর্তগুলো চাক্ষুষ করতে গ্যালারি জুড়ে উপচে পড়া ভিড় জমানোর অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা। এটি কেবল একটি সাধারণ প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক উৎসবের উপলক্ষ।
এই বিশেষ মুহূর্তটির অংশ হতে এরই মধ্যে সপরিবারে নিজ শহর রোজারিও থেকে বুয়েনস এইরেসে এসে পৌঁছেছেন মেসি। এসেইসায় দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে তিনি অনুশীলনে অংশ নেন এবং সতীর্থদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ পার্টিতে সময় কাটান। তবে এই আনন্দঘন আয়োজনের ভেতরেও এক অদ্ভুত বিষাদের সুর বাজছে, কারণ এরপরেই জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের নিয়মিত মুখ হিসেবে আর দেখা যাবে না তাঁকে। মেসির এই বিদায়বেলাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাঁর একাকিত্ব দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ফুটবল কতৃপক্ষ ও সতীর্থরা।
বিদায়ী এই ম্যাচে মেসির পাশে থাকতে রদ্রিগো দে পল, জিওভানি লো চেলসো এবং নিকোলাস ওতামেন্দির মতো পুরনো সতীর্থদের স্কোয়াডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু বর্তমান খেলোয়াড়রাই নন, কাতার বিশ্বকাপ জয়ী দলের সকল সদস্য ও তাঁদের পরিবারকেও এই ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ম্যাচটি ঘিরে যেমন আবেগ রয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাও উঁকি দিচ্ছে সমর্থক মহলে। এমন এক মহাতারকার প্রস্থানে দলে তৈরি হওয়া শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে, তা নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন যে ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং দলগত প্রচেষ্টাতেই এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।