
স্বাস্থ্য ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি মানুষের ওপর চালানো এক বিশাল পরিসরের গবেষণায় দেখা গেছে যে, পুরুষের তুলনায় নারীরা শরীরের প্রায় প্রতিটি প্রধান অংশে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি ব্যথা অনুভব করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার মেডিসিন-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ১১৮টি দেশের প্রায় ৬১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৯৯০ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সংগৃহীত এসব তথ্যে পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী প্রবীণরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গবেষকরা মূলত মানবদেহের এগারোটি সুনির্দিষ্ট অংশে ব্যথার উপস্থিতি ও তীব্রতা পরিমাপ করে এই চমকপ্রদ তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের ব্যথার ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, বিশেষ করে মুখমণ্ডল, মাথা ও পেটের ব্যথায় এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে যে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে মুখের ব্যথার হার প্রায় ৮৩ শতাংশ, মাথাব্যথা ৭৪ শতাংশ এবং উদর বা পেটের ব্যথার হার প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। শুধু ব্যথার উপস্থিতি নয়, বরং তীব্র ব্যথা এবং শরীরের একাধিক স্থানে একসঙ্গে ব্যথা অনুভবের ক্ষেত্রেও নারীদের হার বেশি পাওয়া গেছে। সামগ্রিক শারীরিক ব্যথার ক্ষেত্রে নারীরা ১৬ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও, উচ্চমাত্রার ব্যথার ক্ষেত্রে এই ব্যবধান বেড়ে প্রায় ৫২ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়।
বয়সের সঙ্গে মানুষের শরীরে ব্যথার প্রবণতা বাড়লেও সব ব্যথার ক্ষেত্রে একই ধরনের চিত্র দেখা যায় না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সাধারণত বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো ধরনের শারীরিক ব্যথার হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তবে উচ্চমাত্রার ব্যথা বয়সসীমার একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে, বিশেষ করে পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছালে সর্বোচ্চ রূপ নেয়। অন্যদিকে, মাথাব্যথা বা পেটের ব্যথার মতো সমস্যাগুলো তুলনামূলক কম বয়সেই চরমে পৌঁছাতে পারে, আর পিঠ বা হাঁটুর ব্যথা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী রূপ নেয়।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গেও শারীরিক ব্যথার একটি গভীর সংযোগ রয়েছে। মানব উন্নয়ন সূচক বা এইচডিআই তুলনামূলক কম এমন অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে চল্লিশ বছর বয়সের পর জয়েন্ট ও পিঠের ব্যথা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ধূমপান কিংবা স্থূলতার মতো কিছু সাধারণ কারণ বিশ্বব্যাপী ব্যথার একটি অংশ ব্যাখ্যা করতে পারলেও, অনুন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত ব্যথার নেপথ্যে থাকা অনেক কারণই এখনো রহস্যময়। বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করছেন, কেবল বয়স বিবেচনা না করে রোগীর লিঙ্গ ও সামাজিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে ব্যথা উপশম ও চিকিৎসার কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি।