
জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র ধানমন্ডি লেককে নতুন রূপে সাজাতে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও কাদা অপসারণের মধ্য দিয়ে এই জলাশয়টির পুনঃখনন ও সামগ্রিক আধুনিকায়ন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রায় এক বছর সময় ধরে এই খনন ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে লেকটির হারানো সৌন্দর্য ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই লেকের তলদেশ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার ঘনমিটারের বেশি স্লাজ বা বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এই কাজে আধুনিক ভাসমান এক্সকাভেটর ও বার্জ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু খননকাজের জন্যই ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে তলদেশে বর্জ্য জমে লেকের নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকার একটি বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে। যার একটি বড় অংশে লেকের পানি পরিশোধন, ওয়াকওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। এছাড়া লেকপাড়ে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে জিম, ক্যাফেটেরিয়া, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার এবং বিশেষায়িত ট্রি হসপিটাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই মহাপরিকল্পনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে 'নজরুল সরোবর' বা 'বিদ্রোহী চত্বর' নির্মাণ। রবীন্দ্র সরোবরের আদলে নির্মিতব্য এই চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অ্যাম্ফিথিয়েটার, লাইব্রেরি এবং নজরুলের জীবন ও কর্মভিত্তিক কর্নার থাকবে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ধানমন্ডি লেক নগরবাসীর জন্য আরও আধুনিক ও নিরাপদ বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে।