
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় মোবাইল ফোনের বকেয়া টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাজারের মুচির বটতলা এলাকায় কাঁচামাল ব্যবসায়ীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মধু বিশ্বাস নামের এক ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, নিহত মধু বিশ্বাসের ছেলে শামীম স্থানীয় এক মোবাইল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে একটি পুরোনো ফোন কিনেছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সেই ফোনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে শামীম ও মোবাইল ব্যবসায়ীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী মামুন। তিনি শামীমকে দ্রুত টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের বাবা মধু বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন কদবেল ফুটো করার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো লোহার বস্তু দিয়ে শামীমকে সজোরে আঘাত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আকস্মিক সেই আঘাত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে শামীমের গায়ে না লেগে সরাসরি তাঁর বাবা মধু বিশ্বাসের বুকে গিয়ে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে তৎক্ষণাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহত মধু বিশ্বাসকে উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক আরও জানান, বুকের ভেতরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিরা কেটে যাওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল, যা তাঁর প্রাণহানির কারণ হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মেসবাহ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে এই মর্মান্তিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।