
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করা হয়। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা অংশ নেন। সভায় নতুন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা জনগণের পক্ষে থেকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। কমিটির সভাপতি তার বক্তব্যে স্বাধীনতার পর সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও দক্ষ শক্তিতে রূপান্তর করার বিভিন্ন পরিকল্পনা সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ২৫টি দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিতে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সংক্ষেপে তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা তিন বাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো কমিটির সামনে উপস্থাপন করেন, যা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনা শেষে কমিটির পক্ষ থেকে পুরোনো ও গতানুগতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাদ দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর নির্মাণাধীন অবকাঠামোগুলোতে শক্তি সাশ্রয় বা সেভ এনার্জি নীতি অনুসred করে ব্যয় সংকোচনের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে পদায়নের ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা এবং যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়।