
রাজধানীর ফুটপাতে মাত্র একশ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসা বিক্রেতা মিজানের দোকান আবারও উচ্ছেদ করা হয়েছে। কম খরচে সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটানোর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়ালেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়ে। এর আগেও একাধিকবার তাঁর অস্থায়ী দোকানটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো নিয়মমাফিক সকালে প্রয়োজনীয় রান্নার সরঞ্জাম ও গরুর মাংসের কাঁচামাল নিয়ে ফুটপাতে হাজির হতেন মিজান। এরপর ব্যস্ত রাস্তার পাশেই ফুটপাতের ওপর অস্থায়ী চুলা বসিয়ে শুরু হতো রান্নার কর্মযজ্ঞ। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ থেকে ভোজনরসিক ও কম আয়ের মানুষ সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করতেন। সাধ্যের মধ্যে সুস্বাদু গরুর মাংস পাওয়ার আশায় ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হতো তাঁর এই ভ্রাম্যমাণ খাবারের গাড়ির সামনে।
তবে ফুটপাত দখল করে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার কোনো আইনি বৈধতা না থাকায় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার উচ্ছেদের মুখে পড়লেও মিজান আবারও একই স্থানে দোকান চালু করেছিলেন বলে জানা যায়। ফুটপাতের সাধারণ চলাফেরা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযانের অংশ হিসেবেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
স্বল্পমূল্যে খাবার বিক্রির এই উদ্যোগ আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে উপস্থিত অনেক নিয়মিত ক্রেতা ও নিম্নআয়ের মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছেন। অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে এই ধরনের সাশ্রয়ী খাবার কেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বেশ সহায়ক ছিল বলে মত প্রকাশ করেন অনেকে। অন্যদিকে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, হকারদের পুনর্বাসনের মাধ্যমেই কেবল এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।