
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বিনোদনের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে একটি ক্যাফে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার একটি দুর্গম চরে গড়ে ওঠা 'কাশফুলের ঘাট' নামের ওই চা ও কফি শপে সম্প্রতি এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কাশবনের সৌন্দর্যকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই আস্তানাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাশবনে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার সুবাদে সেখানে দোকানটি চালু করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে চা-কফি বিক্রির আড়ালে সেখানে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকায় এসে জড়িয়ে পড়ত। সন্ধ্যার পর সেখানে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে ডিজে পার্টির আসর বসত, যা এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিচ্ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় ভাড়া করে নর্তকী এনে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনের পাশাপাশি অবাধে মাদক সেবন চলত। এলাকাটি মূল ভূখণ্ড থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে সবসময় পুলিশের কড়া নজরদারি রাখা সম্ভব হতো না। এই সুযোগে একটি চক্র কিশোর-কিশোরীদের নৈতিক অবক্ষয়ের এই কেন্দ্রটি গড়ে তুলেছিল। সম্প্রতি পুলিশ ও গ্রামপুলিশের একটি যৌথ দল আকস্মিক অভিযান চালিয়ে অবৈধ এই স্থাপনাটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
অভিযান চলাকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, সহকারী কমিশনার ভূমি জামিলুর রহমান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন। এই বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন গণমাধ্যমকে জানান, ক্যাফেটির মূল উদ্দেশ্য চা-কফি বিক্রি ছিল না, বরং এর আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হতো। যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে এ ধরনের অবৈধ আড্ডার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।