
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্জন স্থানে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। ক্যাম্পাসসংলগ্ন একটি মেসের পাশের এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ধরে ফেলেন এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে সোপর্দ করেন। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়া ওই ছাত্র ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এবং ছাত্রী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গত কিছুদিন ধরে ওই জুটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাঁদের ওপর নজর রাখছিলেন। একপর্যায়ে রাতে তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁদের ঘিরে ধরেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।
প্রক্টর অফিসে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে দুই শিক্ষার্থীই নিজেদের ভুল স্বীকার করেন এবং উভয়েই স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। লিখিত মুচলেকায় শিক্ষার্থীরা জানান যে তাঁরা পরিবারের সম্মতিতে এবং নিজেদের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীরা দোষ স্বীকার করায় এবং বিয়ের পক্ষে মত দেওয়ায় অভিভাবক ডেকে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের পর মেস খোলা রাখার দায়ে সংশ্লিষ্ট মেস মালিককেও তলব করা হবে বলে প্রক্টর অফিস থেকে জানানো হয়েছে।