
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় নিজ সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন এক পাষণ্ড পিতা। অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান যে, তার সাবেক স্ত্রী অন্যত্রে বিয়ে করায় সেই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকেই তিনি নিজ ১৪ বছর বয়সী সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর পূর্বে নিহত মো. নাঈমের মাতা ও পিতার মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই কিশোর নাঈম তার নানাবাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে তার মা সম্প্রতি পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তার জৈবিক পিতা ইব্রাহীম খলিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে নানা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করতে শুরু করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নানাবাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিল মাদ্রাসাছাত্র নাঈম। কিন্তু পরদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে বিছানায় পাওয়া যায়নি এবং খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুরে বাড়ির কাছের একটি ধানখেতের পাশ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন নিহতের মাতা ও ইব্রাহীমের সাবেক স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে সুবর্ণচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সন্তান হারানোর পর অভিযুক্ত বাবা প্রথমে আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন এবং পরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশি ও আদালতের এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পারিবারিক কলহ ও প্রতিশোধপরায়ণতার এক নির্মম পরিণতির সত্যতা প্রকাশ পায়।