
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে দেশটির অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাদে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই এই ভাষণের পর তেল আবিবের ওপর থেকে নিজেদের দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছে। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বিতর্কিত বক্তব্য কূটনৈতিক মিত্র বাড়ানোর বদলে নতুন করে শত্রু তৈরির পথকেই সুগম করেছে।
লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যেসব কূটনৈতিক প্রতিনিধি নেতানিয়াহুর বক্তৃতার প্রতিবাদে সভাকক্ষ ত্যাগ করেছিলেন, তারা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মুখে নিজেদের 'কাপুরুষ' হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে নিয়েছেন। ফলে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের বরফ গলানোর পরিবর্তে ফাটল আরও চওড়া হয়েছে।
বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা মনে করেন, নেতানিয়াহুর এই ভাষণটি মূলত জাতিসংঘে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া হয়নি। আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ভেতরকার ভোটারদের মন জয় করাই ছিল তার এই বক্তৃতার মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য। ইসরাইলে নির্বাচনের একদম আগের মুহূর্তে নিজ দেশের উগ্র জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সন্তুষ্ট করতেই তিনি এই আক্রমণাত্মক সুর বেছে নিয়েছিলেন।
সবচেয়ে কৌতূহলজনক বিষয় হলো, ভাষণে নেতানিয়াহু কড়া ভাষায় পশ্চিমা দেশগুলোরও সমালোচনা করেছেন। ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বকে রক্ষা করার দাবি তোলার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধেই আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় পশ্চিমা মিত্ররা হতবাক হয়েছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো ঐতিহ্যগত মিত্রদের ঔপনিবেশিক মানসিকতার জন্মদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইসরাইলের এই একরোখা আচরণ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশশারার মতে, এই বিশ্বমঞ্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই নিজের পক্ষে ধরে রাখতে পেরেছেন। ফিলিস্তিন সংকটের এই টানাপোড়েনে ওয়াশিংটনের নিরঙ্কুশ সমর্থন ছাড়া ইসরাইলের বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ত। তবে এই ধরনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইলের বৈদেশিক সম্পর্কের জন্য মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।