
ভারী খাবার গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই এক কাপ গরম চা পান করার অভ্যাস আমাদের অনেকের মাঝেই বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে দুপুরের বা রাতের প্রধান খাবারের ঠিক পরপরই চা খাওয়ার এই ধারাটি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ অভ্যাসটি শরীরের ভেতর নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই খাবার শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই চা পানের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
খাবারের অবিলম্বে চা পান করার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিকটি হলো এটি শরীরের পুষ্টি উপাদান শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। চায়ের মধ্যে উচ্চমাত্রায় ট্যানিন নামক একটি বিশেষ উপাদান উপস্থিত থাকে, যা খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা আয়রনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এর ফলে শরীর বিশেষ করে উদ্ভিদভিত্তিক উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়রন সঠিকভাবে শোষণ করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে এবং একপর্যায়ে তা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আয়রন শোষণের পাশাপাশি এটি পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপরেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে। চায়ে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান খাবার থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও পুষ্টি উপাদানগুলো শরীর কর্তৃক গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এছাড়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভরা পেটে চা পান করার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, এসিডিটি কিংবা বুক জ্বালাপোড়ার মতো অস্বস্তিকর লক্ষণগুলো দ্রুত প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই পরিপাকজনিত জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাসটি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য খাবারের সময় এবং চা পানের সময়ের মাঝে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টার একটি স্বাস্থ্যকর ব্যবধান রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আপনি যদি খাবার শেষ করার পরপরই চা পানের অভ্যাস থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে না পারেন, তবে অন্তত খাবার এবং চায়ের মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি দেওয়া উচিত। এতে শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াও তার নিজস্ব স্বাভাবিক গতিতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।