
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) অষ্টাদশ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত এই ফলে বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী চৈতি বিশ্বাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই সাফল্যের মাধ্যমে দেশের বিচার বিভাগে নতুন এক নারী বিচারক যুক্ত হওয়ার পথ সুগম হলো।
বিশেষ এই অর্জনের পেছনে রয়েছে এক দারুণ পারিবারিক অনুপ্রেরণার গল্প। চৈতির স্বামী উদাস গোস্বামীও এর আগের একটি বিজেএস পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একই পেশায় যুক্ত হওয়ায় তাদের এই সাফল্য আইন অঙ্গনসহ চারদিকে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। দম্পতির এমন যুগপৎ অর্জন অনেকের কাছেই দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ক একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ফলাফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন উদাস গোস্বামী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে ছোটবেলা থেকেই বিচারকদের কার্যক্রম দেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এখন নিজের জীবনসঙ্গীও একই পেশায় আসায় প্রতিদিন সকালে একজন বিচারককে দেখার দুর্লভ সৌভাগ্য তার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে উদাস গোস্বামী তার স্ত্রীর নিরলস পরিশ্রম ও সাধনার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় চৈতির দীর্ঘদিনের কঠোর অধ্যবসায় আজ তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তার প্রয়াত বাবার কথাও স্মরণ করেন, যিনি পুত্রবধূর এই বড় সাফল্য দেখে যেতে পারেননি বলে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। পোস্টের শেষে তিনি স্ত্রীকে 'জজ সাহেবা' সম্বোধন করে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।