
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপে সমর্থন না দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তেহরান। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে এক বৈঠকে এই দ্ব্যর্থহীন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফিলিস্তিনের গাজা কিংবা খোদ ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক কার্যক্রমে ইউরোপীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তার সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ প্রতিনিধিরা যেন কোনোভাবেই পশ্চিমা মিত্রদের যুদ্ধাপরাধ বা আগ্রাসী পদক্ষেপে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদদ না দেন, সে বিষয়ে তেহরানের শক্ত অবস্থানের কথা বৈঠকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার পেছনে পশ্চিমা শক্তির এই যৌথ কৌশলকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে ইরান।
বৈঠকের এই আলোচনার বাইরেও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর কঠোর সমালোচনা করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সংঘটিত বড় বড় কৌশলগত ভুলগুলো ছাড়াও ন্যাটো নেতৃত্বের এখন এটি উপলব্ধি করা উচিত যে, কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি বা আঞ্চলিক গুণ্ডাকে তোষামোদ করে কখনো শান্তি বা সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের একটি ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া ওই পোস্টে ইউরোপীয় দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতি ও যুদ্ধোন্মাদনার তীব্র সমালোচনা করা হয়।
আব্বাস আরাগচি আরও অভিযোগ করেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তা এবং তাদের ভূখণ্ডের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার না করলে ইরানের ওপর বড় ধরনের মার্কিন হামলা চালানো কিছুতেই সম্ভব হতো না। ইউরোপের প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং শক্তি প্রদর্শনের এই প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ প্রস্তুত না থাকলে যৌথ আক্রমণ এতটা সহজ হতো না বলে দাবি করেন তিনি। তেহরানের এই শীর্ষ কূটনীতিকের মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো থেকেই কয়েক হাজার যুদ্ধবিমান আকাশে ডানা মেলেছে।