
ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর এক ফাইনালে পেরুকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে নবমবারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা ঘরে তুলেছে স্বাগতিকরা। ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ব্রাজিলের জয়ের মূল নায়ক ছিলেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস, যিনি নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়েও গোল করিয়েছেন। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এই ফরোয়ার্ডকে, যা ম্যাচের শেষ ভাগে কিছু পলের জন্য হলেও উত্তেজনা তৈরি করেছিল। প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রিও ডি জেনিরোর এই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরুর দিকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল। ম্যাচের পঞ্চদশ মিনিটে ডানপ্রান্তে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে পেরুর দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানান ম্যানচেস্টার সিটির তারকা গ্যাব্রিয়েল হেসুস। এরপর তার নিখুঁত ক্রসে ফাঁকায় থাকা এভারটন দারুণ শটে বল জালে জড়িয়ে গোল উৎসবে মাতান। তবে দীর্ঘকাল ধরে শিরোপার খরায় থাকা পেরু দলও হাল ছাড়েনি এবং বিরতির ঠিক এক মিনিট আগে সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। থিয়াগো সিলভার হাতে বল লাগার সুবাদে পেনাল্টি পায় পেরু এবং পাওলো গুরেরো নিখুঁত স্পট কিকে গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন। চলতি টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচ পর এটিই ছিল ব্রাজিলীয়দের হজম করা প্রথম কোনো গোল।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করলেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি কোচ তিতের দল এবং বিরতির ঠিক আগেই তারা আবারও ম্যাচে এগিয়ে যায়। মাঝমাঠ থেকে চমৎকার একটি আক্রমণ তৈরি করে রবার্তো ফিরমিনো এবং আর্থারের পাস ধরে দারুণ ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান গ্যাব্রিয়েল হেসুস। দ্বিতীয়ার্ধে পেরু সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে এবং ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ পায় যখন হেসুস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর আগে প্রথমার্ধে বাজে ফাউলের কারণে হলুদ কার্ড দেখা হেসুস, ম্যাচের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্লোস জামব্রানোর ওপর ক্ষোভ ঝাড়লে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান।
মাঠের একজন খেলোয়াড় কম থাকার পরও দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে যায় ব্রাজিল এবং ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করে নেয়। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে বদলি খেলোয়াড় রিচার্লিসন পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ব্যবধান ৩-১ এ উন্নীত করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৭ সালের পর আবার কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পেল ব্রাজিল, আর জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছর পর এটি কোচ তিতের প্রথম কোনো ট্রফি জয়।