
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন প্রশাসন যদি তেহরানের ওপর থেকে অবরুদ্ধকরণ নীতি এবং আগ্রাসী সামরিক কৌশল পরিহার করে, তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই জলপথ চলাচলের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে।
বিশ্ব অর্থনীতির জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত একটি নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্ববাসীর একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে এই প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বরাবরই শঙ্কা বিরাজ করছে।
তেহরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন পক্ষ থেকে ইতিবাচক কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিলকরণের সৎ সদিচ্ছা প্রকাশ পেলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার এই অচলাবস্থা নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী অংশীদাররা নজর রাখছেন। তেহরানের এমন শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন ধরে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কে তীব্র অবনতি ঘটেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরানের এই প্রস্তাবকে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন তেহরানের এই প্রস্তাবের জবাবে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।