রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর ১১ বছরের শিশু মো. আব্দুল্লাহকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পড়ালেখা নিয়ে বাবার বকুনিতে অভিমান করে সে বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঝাউচর বাজার এলাকার বাসা থেকে সে বেরিয়ে আর ফেরেনি, যার ফলে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল তার পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে বের করতে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা শিশুটির বাসার আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেন। ওই ফুটেজগুলোতে দেখা যায়, আব্দুল্লাহ নিজেই স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বের হয়ে লেগুনায় চড়ে গুলিস্তান এবং পরে বাসে করে বিমানবন্দর এলাকায় চলে যায়। বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছে সে সেখানকার স্থানীয় পথশিশুদের সঙ্গে মিশে যায় এবং আশপাশের মানুষের কাছ থেকে চেয়ে খেয়ে কোনোমতে দিন পার করে।
বিমানবন্দর থেকে ট্রেনযোগে শিশুটি প্রথমে কমলাপুর এবং পরবর্তীতে টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে উপস্থিত হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং দীর্ঘ তল্লাশির মাধ্যমে টঙ্গী রেলস্টেশনের পাশের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে টঙ্গী রেলস্টেশনের পাশ থেকে ঘুমানো অবস্থায় শিশু আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাজারীবাগ থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায় যে, ঘটনার দিন সকালে পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয়ে তার বাবা তাকে বকাঝকা করেছিলেন। বাবার ওপর অভিমান ও রাগ থেকেই সে কাউকেই কিছু না জানিয়ে নিজ ইচ্ছায় বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও প্রায় দুই মাস আগে সে একইভাবে কাউকে না জানিয়ে একা একা মুন্সিগঞ্জে তার চাচার গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে শিশুটির নিজ ইচ্ছায় বাসা ছাড়ার এমন ঘটনা এটি নিয়ে মোট তিনবার ঘটল বলে জানা গেছে।
এই পুরো ঘটনায় অন্য কোনো অপরাধমূলক তৎপরতা বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ। পরবর্তীতে শিশুটির সার্বিক কল্যাণ ও সর্বোত্তম স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট জিডির ভিত্তিতে শিশুটিকে তার বাবা মো. আমজাদ শেখের জিম্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করেনি, তবে অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের সঙ্গে আরও ধৈর্যশীল ও সংবেদনশীল আচরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।