
দেশের সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করার জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পরিবহন খাতের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ জনগণের ওপর। এই পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘব করার জন্য জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই বলে মনে করছে তারা।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে এরই মধ্যে বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী বাস, লঞ্চ ও অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনিতেই বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তার ওপর পরিবহন খরচের বাড়তি বোঝা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। তাই দেশের শ্রমজীবী ও সাধারণ আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের উচিত দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার অজুহাতে দেশের বাজারে বারবার দাম বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শুধু যাত্রী সাধারণই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এক ধরনের নেতিবাচক শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
সবশেষে, জনগণের ওপর এই অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জন্য জ্বালানি খাতের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করে সরকার খুব শীঘ্রই জনস্বার্থে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দেবে এবং গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।