
দেশের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অতি দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পক্ষ থেকে কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতার আহ্বান জানান। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা অপরিহার্য। গ্রিড সংযুক্তি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আইএইএ-এর এই সহযোগিতা প্রকল্পের বাকি কাজগুলো আরও সুচারুভাবে শেষ করতে সাহায্য করবে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জানা গেছে যে, নির্মাণকাজের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে সঞ্চালন লাইন এবং গ্রিডের সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই ধরনের অংশীদারিত্ব দেশের পারমাণবিক খাতের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাছাড়া, ভবিষ্যতে এই খাতের স্থানীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও এই সহযোগিতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রূপপুর থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে এবং শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমে আসবে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এই কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।