
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কোনো বিরোধ কিংবা ক্ষোভের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত স্বামী জহুরুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে সোজাসুজি স্থানীয় বাজারের দিকে হেঁটে যান। বাজারের লোকজনের সামনে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ তার মুখে এমন নৃশংসতার কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জহুরুল বাজারে গিয়ে চিৎকার করে লোকজনকে বলেন যে তার কোনো আগের বা পেছনের দায়িত্ব নেই এবং তিনি আজ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তার এই অদ্ভুত ও নির্মম মন্তব্য উপস্থিত জনতাকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে একত্রিত হয়ে ওই ঘাতক স্বামীকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পুলিশ এসে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার পেছনের আসল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।