
শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত মূলধন ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং লিমিটেড। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত এই অর্থ নির্ধারিত খাতের পরিবর্তে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সিকিউরিটিজ আইন পরিপন্থী। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর এই চাঞ্চল্যকর আর্থিক দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত তহবিল যথাযথ নিয়ম মেনে এবং অনুমোদিত প্রকল্পের কাজে লাগায়নি। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন এবং পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থার পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। পুঁজিবাজারের নিয়মনীতি কঠোরভাবে লঙ্ঘন করায় সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান এবং পর্ষদের অন্যান্য পরিচালককে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আইপিও তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নজরদারি আরও জোরদার করা উচিত। এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। ডমিনেজ স্টিল কোম্পানির এই ঘটনার পর বাজারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।