{"category": "রাজনীতি", "content": "
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাকৃবি শাখার জন্য নতুন একটি এক বছর মেয়াদী কমিটি অনুমোদন করা হয়। ঘোষিত এই কমিটিতে ইমরান সিদ্দিকী প্রান্তকে সভাপতি এবং মোাইন নাদিম আল মুনাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে আরও বেশ কিছু পদে নতুন নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে যা মুহূর্তেই ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কমিটি আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এর প্রতিবাদে সম্প্রতি রাতে ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের ওই কর্মসূচিতে শাখা সংগঠনের সদস্যসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিভিন্ন হলের শতাধিক নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের কার্যক্রম কঠোর হাতে দমন করার ঘোষণা দেন।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে এই ধরনের নিষিদ্ধ সংগঠনের উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে অবিলম্বে ক্যাম্পাসে ওই সংগঠনের সব ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তারা মনে করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত ও বিপ্লবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
অন্যদিকে, এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরও। ছাত্রশিবিরের বাকৃবি শাখার সভাপতি এক প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন যে, গত জুলাই-আগস্টের গণঅভুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের ছাত্ররাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও শিক্ষার্থীদের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রলীগ রাজনীতি করার সব নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে এবং নতুন এই কমিটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।