
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এই অভিযানে সিগারেট তৈরির একটি মেশিনসহ মোট নয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ভারতীয় 'মেসি' ব্র্যান্ডের ছয় কার্টন নকল সিগারেটও জব্দ করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘী এলাকার একটি ডিপুতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৪ আগস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রামে যৌথ বাহিনীর অভিযানে একটি সিগারেট তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়েছিল। সে সময় কাউকে আটক করা সম্ভব না হওয়ায় উদ্ধারকৃত মেশিনটি স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়। কিন্তু এর পরদিনই অর্থাৎ ৫ আগস্ট জিম্মায় থাকা ওই মূল্যবান মেশিনটি রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে এই চুরির ঘটনায় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে চুরির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালায়। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত হন যে, চুরি হওয়া মেশিনটি দিয়েই চৌদ্দগ্রামের একটি ডিপুতে অবৈধ কার্যক্রম চলছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নকল সিগারেট উৎপাদনকারী চক্রটিকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে আটককৃত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় বা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
অভিযানের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, প্রশাসনের নির্দেশে জব্দকৃত মেশিনটি তার জিম্মায় রাখা হয়েছিল এবং চুরির ঘটনায় তিনি নিজেই থানায় মামলা করেছিলেন। পুলিশ সফল অভিযান চালিয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে মেশিনটি উদ্ধার করায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং এর পেছনে বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।