দৈনন্দিন জীবনে লেখার কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা সাধারণত অব্যবহৃত বা খালি প্লাস্টিকের কলমগুলো যত্রতত্র ফেলে দিই। কিন্তু এসব অপসারিত প্লাস্টিক বর্জ্য প্রকৃতিতে মিশে না গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে চলেছে। অথচ এই প্রচলিত অভ্যাসের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অভিনব ও প্রকৃতিবান্ধব এক উদ্যোগ গ্রহণ করে সকলের নজর কেড়েছেন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার এক তরুণ উদ্যোক্তা। পরিবেশ সুরক্ষার এই ব্যতিক্রমী ধারণার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা থেকেও প্রকৃতির কল্যাণে বড় কিছু করা সম্ভব।
শিবচর শহরের ডিসি রোড নিবাসী তরুণ উদ্যোক্তা জামাল শিকদার প্লাস্টিক দূষণ রোধে তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব কাগজের তৈরি বিশেষ কলম। সাধারণ লেখার উপকরণের বিকল্প হিসেবে বাজারে আসা এই কাগজের কলমগুলোর ভেতরে অভিনব উপায়ে বিভিন্ন গাছের বীজ সংরক্ষণ করা হয়। কালি শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই কলমগুলো নষ্ট না করে মাটিতে বা টবের ভেতর পুঁতে রাখলে তা প্রাকৃতিকভাবে পচে মাটির সাথে মিশে যায়। এরপর কলমের ভেতরে থাকা বীজ থেকে ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয়ে জন্ম নেয় নতুন গাছের সতেজ চারা।
নিজের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তরুণ উদ্যোক্তা জামাল শিকদার জানান যে, তিনি মূলত প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই কাজ শুরু করেছেন। তার এই পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে বেশ সফলতা অর্জন করেছে এবং তিনি বাজারেও এই কলমগুলো সরবরাহ করছেন। তার মতে, মানুষ যদি দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক পণ্যের পরিবর্তে এ ধরনের পরিবেশসম্মত বিকল্পগুলো ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়, তবে আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।
মাদারীপুরের এই তরুণের সৃজনশীল ও পরিবেশবাদী এই উদ্যোগটি এরই মধ্যে স্থানীয় সচেতন মহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ উভয়েই মনে করছেন যে, প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে এই ধরনের উদ্যোগ কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং পুরো দেশজুড়ে বিস্তার করা প্রয়োজন। এই অভিনব কাগজের কলমের প্রচলন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে তা একদিকে যেমন প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে তেমনি আমাদের চারপাশে সবুজ গাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।