
বাজারের সুদৃশ্য এবং চকচকে মোড়কে মোড়ানো প্যাকেটজাত খাবার দেখলেই সেটি পুরোপুরি নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া যায় না। অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন করে নতুন লেবেল লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই দোকান থেকে যেকোনো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য কেনার সময় ক্রেতাদের কেবল বাইরের সৌন্দর্য দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে বরং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে দুধ ও দুধজাত খাবার, মাছ, মাংস, ফলের জুস কিংবা বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস কেনার সময় খুঁটিনাটি বিষয়গুলো যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। একটু সচেতনতা ও সামান্য সময় ব্যয় করলেই এ ধরনের ভেজাল বা পুরোনো খাবার কেনার ঝুঁকি থেকে নিজেদের ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
প্যাকেটের গায়ে থাকা উৎপাদনের সময়সীমা এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নিখুঁতভাবে যাচাই করা কেনাকাটার প্রাথমিক ধাপ হওয়া উচিত। শুধু সামনের দৃষ্টিনন্দন লেবেলটি দেখেই সন্তুষ্ট না হয়ে প্যাকেটের পেছনের বা নিচের অংশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক। কোনো পণ্যের গায়ে ‘ইউজ বাই’ বা ‘বেস্ট বিফোর’ শব্দগুলো স্পষ্টভাবে মুদ্রিত আছে কি না, তা দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন খাবারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া চলে না। এছাড়া আসল লেবেলের ওপর নতুন কোনো স্টিকার সেঁটে দেওয়া হয়েছে কি না কিংবা তারিখের অংশটি সন্দেহজনকভাবে ঢেকে রাখা হয়েছে কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে।
খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্যাকেটের সার্বিক অবয়ব ও সিলমোহর অক্ষত আছে কি না তা পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মোড়ক ছেঁড়া, ফুটোযুক্ত, অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকা কিংবা সিলগালা খোলা থাকলে সেই পণ্যটি বর্জন করাই শ্রেয়। বোতলজাত বা ক্যানজাত খাবারের ক্ষেত্রে ঢাকনা ঠিকঠাক আছে কিনা এবং নিরাপত্তা সিল পুরোপুরি ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত নয় তো, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ক্যানে কোনো ধরনের লিক বা জোড়ের মুখে ত্রুটি থাকলে তা কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া দৃশ্যমান খাবারের ক্ষেত্রে যদি কোনো অস্বাভাবিক রং, ছত্রাক কিংবা অদ্ভুত গন্ধ অনুভূত হয়, তবে সেই পণ্যটি এড়িয়ে যাওয়াই নিরাপদ।
দোকানে পচনশীল খাদ্যপণ্যগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেটিও গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। মাংস, মাছ বা দইয়ের মতো ফ্রোজেন বা ঠান্ডা খাবার কেনার সময় সংশ্লিষ্ট ফ্রিজটি পর্যাপ্ত ঠান্ডা রয়েছে কি না, তা খেয়াল করতে হবে। হিমায়িত খাবারের প্যাকেটে যদি বরফ গলে যাওয়ার দাগ বা পুনরায় তরল জমে শক্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সংরক্ষণে ত্রুটি ছিল। অন্যদিকে, বাজারে কোনো পণ্য যদি অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হতে দেখা যায়, তবে অতি লোভে পড়ে তা না কিনে বরং কারণ খোঁজা উচিত। মেয়াদ শেষের কাছাকাছি চলে আসা কিংবা সন্দেহজনকভাবে কম মূল্যের পণ্যগুলো কেনার আগে প্যাকেটের অবস্থা ও মান সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া দরকার।