
রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদক প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও তার স্ত্রী নিগার সুলতানা এবং শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৭(১) ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাবেক ডিজি শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে এসেছে। তার নিজ নামে মোট ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, যার বিপরীতে তার বৈধ গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য নানাবিধ ব্যয় মিলিয়ে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। সব হিসাব মিলিয়ে তার আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকারও বেশি, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে দুদক।
এদিকে মামলার অনুমোদন পাওয়া অপর আসামি শেখ মামুন খালেদের স্ত্রী নিগার সুলতানার বিরুদ্ধেও প্রায় ৫৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে তার আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন খাতের দেখানো আয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো বৈধ উৎস কিংবা রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। এমনকি বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের মাঠপর্যায়ের রেকর্ডপত্র যাচাই ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে তার আয়কে ভিত্তিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে তার ভাই অর্থাৎ সাবেক এই কর্মকর্তার শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি বিরোধী এই সংস্থাটি। আমিনুর রহমানের আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ বাবদ দেখানো কোটি কোটি টাকার আয়ের পক্ষেও কোনো গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ বা বৈধ উৎসের সন্ধান মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগে নতুন এই মামলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে থেকেই সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা অন্য একটি অভিযোগে কারাবন্দী রয়েছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে রাজধানী ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছিল এবং পরবর্তীতে একটি গুম-সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারাগারে আটক জীবনযাপন করছেন। দুদকের পক্ষ থেকে এখন এই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।